যদি ভালোবাসতে হয়
(সম্পূর্ণ কবিতার PDF)
কিশোর মজুমদার
[দীর্ঘ কবিতা ]
( সিরিজের যে কোনো অংশও এককভাবে আবৃত্তি বা পাঠ করা যেতে পারে )
www.kishoremajumder.com
যদি ভালোবাসতে হয়
(এক)
যদি ভালোবাসতে হয় –
যদি ভালোবাসতেই হয় তবে ভেঙেচুরেই বেসো
মন বেতারে খবর পেলে একলা ডিঙায় এসো।
যদি ভালোবাসতেই হয় তবে ভেঙেচুরেই বেসো
মাতাল অতীত স্মৃতির ঢিপি হৃদয় পূর্ণ গ্রাস
রোদ চাপালে জোর জুলুমের মেঘের পর্দা ফাঁস
তোমায় লেখা সব কবিতাই সপ্ত সুরের গানে
পর্দাঘেরা আগুন আঁচের খবর নিতে জানে –
কী জানি কী ; ভয় জেগে রয় দম ফুরোনো ঘড়ির
সাইড লাইনে আটকে থাকে নিংড়ে নেওয়া শরীর
জ্বলুক নিবুক সবটুকু রঙ লিখুক শুরু শেষও
যদি ভালোবাসতেই হয় তবে ভেঙেচুরেই বেসো ।
চোখার নোনায় বাতাস ভেজাক গোলাপি পাঞ্জাবি
হাজার দুয়ার মনের ঘরের একটা মাত্র চাবি
তোমার ওজর আপত্তিতে সেই চাবিতে আঁচল
জড়িয়ে গেছে ; যাক যেতে দাও । বর্ষাতে পা পিছল
কুড়িয়ে এনে হৃদয়কুচি পাশবালিশের উলে
অভিমানের বরফ ছেনে মেশাও চোখের জলে
কীর্তিগাথা লিখবো দু’জন , অথবা কেউ কবি
দোহায় শায়ের ভাজবে দু’লাইন হোক না সে মতলবি ।
জলে কুমির ডাঙায় থাকুক বাঘের হালুম খানি
হাড় – হাভাতেও প্রেম বেঁচে রয় যেমন মাছের পানি ,
কদর্য শোক বিলাপ তাপেও ওভার বাউণ্ডারি
আশকারাটা পেলে তোমার আমিই মারতে পারি।
অনুযোগের হাজার ফিকির কিংবা গ্রহের দোষও
যদি ভালোবাসতে হয় –
যদি ভালোবাসতেই হয় তো ভেঙেচুরেই বেসো ।
…………………………
যদি ভালোবাসতে হয়
(দুই)
নাই বা হল বৃষ্টিভেজা মেঘলা মুখর দিনে
ব্যালকনিতে উদাস দুপুর সোনালি আলপিনে
ঝুলতে থাকুক ,
ঝুলতে থাকুক ডিপ্রেশনের সমস্ত অক্ষর
একপাশে থাক রান্নাবাটির আকাশ খেলাঘর।
ছুটতে ছুটতে হাজার বছর , লক্ষ বছর জুড়ে –
একটু থেমে বাসবো ভালো ঘাড় বাঁকিয়ে ঘুরে;
নাই বা আসুক তুফান, ভাঙুক কলাপাতার বাড়ি
নাই বা জমুক ভিড়ের মাঝে একলা খবরদারি
খবর তোমার গোপন চিঠি নীল কেবিনের পাশে
অনন্তকাল ভাঙছে দেয়াল পুরোনো অভ্যাসে ।
চাঁদ থেমেছে , নামবে কোথাও গভীর কুয়োর জলে
ডুবেই যাবে ? কিংবা প্রেমে বাঁচবে সুকৌশলে ?
ভালোবাসতে হিসেব কেন ? কেউ বুঝি তা করে ?
অবশ্য ঠিক ভীতুর মতো কেউ তো কাঁদে ঘরে ।
এঁটোর মতো কারো জামায় লেগেই থাকে কাদা
ভালোবাসার ঝাপসা ছবি ঘুণ-ধরা ফ্রেম বাঁধা ,
আমরা জানি ঠিক কেমন হয় ভালোবাসার গান –
মরণ ডিঙার লাল পতাকায় উড়িয়ে কবুল জান ।
সমস্ত পথ পেরিয়ে গিয়েও খুঁজবো আরেক পথ
অবশ্য ঠিক ভালোবেসেই ; সম্মুখে দ্বৈরথ ।
ঢেউয়ের মতন – স্রোতের মতন – জলের মতন যদি –
ভালোবাসার অক্সিজেনের আগাছা ওষধি
এই দুটি প্রাণ ।
এই দুটি প্রাণ হোক না কেন স্বর্গচ্যুত দাসও
যদি ভালোবাসতেই হয় তো ভেঙেচুরেই বাসো ।
………………………………….
যদি ভালোবাসতে হয়
(তিন)
আজকে না হয় উড়েই যাবো নীল পরিদের দেশে
নীল নীলিমায় জড়িয়ে যাবো একটু ভালোবেসে,
তারার গায়ে আলতো আঙুল বুলিয়ে নেব হাসি
মন জোনাকি লিখবে দেয়াল – তোমায় ভালোবাসি-
আরও দূরে অনেক দূরে তেপান্তরের মাঠে
গল্প হয়ে ছড়িয়ে যাবো সমস্ত তল্লাটে ;
ফিরবো তবে ; ফিরতে হবেই আমার কাঁচা ঘরে
শূন্যতাকেও ভরবো দুজন মিস্টি আদর ভরে ।
ওদের চোখের চশমা কাঁচে নোংরা সর্বনাশা
ওরা দেবে কথার খোঁচা , আমরা ভালোবাসা –
হোক না তবু , আমরা ওদের থোরাই কেয়ার করি
মহাকালের নিঠুর হাতেই আমরা প্রেমের ঘড়ি ,
ভালোবাসার অমৃত স্বাদ ধ্বংস করে বিষও
যদি ভালোবাসতেই হয় – তবে ভেঙেচুরেই বেসো ।
………………………………………
যদি ভালোবাসতে হয়
(চার)
ঘরকন্যার শেষে
কুয়াশার বোন এসে
ধূসরের চোখে দিক রং
আলগোছে ফাগুনের
ছাইচাপা আগুনের
পাশে থেকো তুমিও বরং
আমিও থাকবো দেখো
মোমবাতি জ্বেলে রেখো
অবসাদ নেমে এলে মাটিতে
নীরবতা দায় নেবে
শ্বাসটুকু সায় দেবে
যেই প্রেম মাছে আর বটিতে ;
গাছেদের মর্মরে
ভালোবাসা ভর করে
পিছুটান নালিশের আখ্যান
হ্যাঁ গো তুমি ভালোবাসো ?
পুড়ে গেলে শেষ লাশও
ইতিহাস ফেঁদে রেখো একখান ;
ঔচিত্যের দামে
একফালি রাত নামে
চুপকথা মেনে নেবে তার দায়
উলটে কি রাখা ছিল ?
বর্ণের শেষ মিলও
সাবধানে জানালার পর্দায় ?
দোলা দিয়ে আলগোছে
রেখাপাত ফেলে গেছে
ঠোঁটে থামা লোভনীয় কাটলেট ;
বিকেলের ছায়াময়
পাকাচুল বলে দেয়
বরাবর এই দ্যাখো ট্রেন লেট ।
*** *** ***
কেরসিন শিখায় কাঁপে দোদুল্যমান আঁধার
ভালোবাসা বিকোয় না’ক ; শুধু উত্তর নেই ধাঁধার
জন্ম জন্ম পেরেক পুঁতেও ঠোঁটে নেবো সন্দেশও
যদি ভালোবাসতে হয় –
যদি ভালোবাসতেই হয় তো ভেঙেচুরেই বেসো
মন বেতারে খবর পেলে একলা ডিঙায় এসো ,
যদি ভালোবাসতে হয় তবে ভেঙেচুরেই বেসো
যদি ভালোবাসতে হয় –
যদি ভালো বাঁচতে হয় –
………………………………